ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্বাক্ষরের আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির এক ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক। তেহরানের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কূটনৈতিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের আগেই ইরানের বন্দর ও জাহাজের ওপর আরোপিত প্রায় দুই মাসের সমুদ্রপথের অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আলোচনার শুরু থেকেই অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে তেহরান। অবশেষে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগেই অবরোধ কার্যত তুলে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি ইরানের ওপর আরোপিত সমুদ্রপথের অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন।
তবে আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী একটি বহুজাতিক সংস্থা সোমবার জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আগামী শুক্রবার পর্যন্ত অবরোধ বহাল থাকার কথা। ফলে অবরোধ প্রত্যাহার নিয়ে ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে এসেছে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এর জবাবে ইরান বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালায়। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে দেশটি।
পরবর্তীতে ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর সমুদ্রপথের অবরোধ আরোপ করা হয়। সাম্প্রতিক সমঝোতা উদ্যোগের মধ্যেই সেই অবরোধ প্রত্যাহারের পদক্ষেপ দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।