ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যর্থতার মুখে ফেলেছে এবং ইসরায়েলের পতনের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুততর করেছে। একই সঙ্গে তিনি আঞ্চলিক প্রতিরোধ জোটের শক্তি ও ঐক্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সোমবার রাতে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে জেনারেল কানি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, এ যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দুর্বল হয়েছে এবং ইসরায়েলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সংকটের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধ আন্দোলনের ভিত্তি ইসলামী বিপ্লবের শুরুর সময়েই গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সেই ধারা আরও শক্তিশালী হয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও শক্তিকে একত্রিত করে একটি বৃহৎ প্রতিরোধ জোটে রূপ নেয়।
কানি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উপলব্ধি করছে যে প্রতিরোধ শক্তিগুলো কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম। তিনি বলেন, ব্যাপক সামরিক চাপ ও ধ্বংসযজ্ঞের পরও ফিলিস্তিন ও লেবাননের কোনো প্রতিরোধ সংগঠন তাদের অবস্থান থেকে সরে যায়নি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো নিজেদের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা ইরানকে সম্ভাব্য চাপ থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সংঘাতে আঞ্চলিক প্রতিরোধ জোটের ভূমিকার প্রশংসা করে কানি বলেন, বিভিন্ন ফ্রন্টে এসব সংগঠন কার্যকর উপস্থিতি দেখিয়েছে। তিনি বিশেষভাবে লেবাননের হিজবুল্লাহর কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
কুদস ফোর্সের এই কমান্ডার আরও বলেন, প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর শক্তি সম্পর্কে বাইরে থেকে যতটা দেখা যায়, বাস্তবে তাদের সক্ষমতা তার চেয়েও বেশি। তাঁর মতে, এসব সংগঠন শুধু নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের নয়, বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে।
তিনি বাব আল-মন্দব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এই অঞ্চলে প্রতিরোধ শক্তির প্রভাব এতটাই দৃঢ় যে প্রতিপক্ষের সামরিক উপস্থিতি সেখানে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
একই সঙ্গে তিনি ইরানের কূটনৈতিক দলের ভূমিকাও প্রশংসা করেন। কানি বলেন, সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই সমন্বিত অবস্থান প্রতিরোধ কৌশলকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক প্রতিরোধ জোটের ঐক্য ও সমন্বয় ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
তবে উল্লেখ্য, জেনারেল কানির এসব বক্তব্য মূলত তাঁর নিজস্ব দাবি ও মূল্যায়নের প্রতিফলন। যুদ্ধ, সামরিক সাফল্য কিংবা আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও মূল্যায়ন ভিন্ন হতে পারে।