সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেওয়া পদ্মা সেতু সাফল্যের ৪ বছর পূর্ণ করেছে। ২০২২ সালের ২৬ জুন যান চলাচল শুরুর পর থেকে গত ৪ বছরে সেতুটি দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার ৫১৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে সর্বমোট ৩ হাজার ৩০০ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১১৪ টাকা টোল আদায় হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বাসেক) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েদ নিলয় এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সেতুতে আধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম (ইটিসিএস) যুক্ত হওয়ার পর টোল আদায়ের গতি আরও বেড়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের বার্ষিক টোল রিপোর্টের হিসাব অনুযায়ী:
-
প্রথম বছর (২০২২-২৩): ৫৬ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৯টি যানবাহন থেকে আয় ৭৯৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
-
দ্বিতীয় বছর (২০২৩-২৪): ৬৮ লাখ ১ হাজার ৩৭৪টি যানবাহন থেকে আয় ৮৫০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
-
তৃতীয় বছর (২০২৪-২৫): ৬৯ লাখ ৭৭count; ৩৩৪টি যানবাহন থেকে আয় ৮৫৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
পদ্মা সেতুর ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছে গত বছরের ঈদুল আজহার আগে ৫ জুন, যেদিন ২৪ ঘণ্টায় ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন থেকে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা টোল আদায় হয়।
অর্থনৈতিক মুক্তি ও বহুমুখী ব্যবহার:
পদ্মা সেতু কেবল উত্তাল নদী পারাপারের ভোগান্তি থেকেই মুক্তি দেয়নি, বরং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন করেছে। বর্তমানে সেতুর ওপর দিয়ে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলার পাশাপাশি নিচ দিয়ে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করছে। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর রেল লিংক প্রকল্প পুরোপুরি চালু হওয়ার পর রাজধানী থেকে ভাঙ্গা, নড়াইল ও যশোর হয়ে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টায় খুলনা ও বেনাপোলে সরাসরি ট্রেন পৌঁছাচ্ছে। এছাড়া এই সেতুর পিলার ব্যবহার করে পায়রা ও রামপালের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে এবং এর ওপর দিয়ে উচ্চ ক্ষমতার ইন্টারনেট ও গ্যাস লাইনও স্থাপন করা হয়েছে।
প্রকল্পের খরচ ও ঋণ পরিশোধ:
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই মেগা প্রকল্পের সর্বশেষ প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তবে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে চূড়ান্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ link;৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যার ফলে প্রকল্পের প্রায় ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। অর্থ বিভাগের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ চুক্তি অনুযায়ী, ১ শতাংশ সুদসহ আগামী ৩৫ বছরে ১৪০টি কিস্তিতে এই ঋণের টাকা পরিশোধ করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, যা ২০৫৬-৫৭ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে। বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়ের সাথে মিল রেখে সেতুতে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পুরো সেতু জুড়ে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।