হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগের পর পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো বস্তু আঘাত হানে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরান ঘোষণা দিয়েছিল, ইরানের অনুমোদিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা তারা দিতে পারবে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, জাহাজটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানের সংশ্লিষ্ট নৌ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার দায় তারা নেবে না।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার শিকার জাহাজটির নাম ‘এভার লাভলি’। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী এই জাহাজে চালকবিহীন আকাশযানের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি যুদ্ধবিরতি বা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সমঝোতা লঙ্ঘন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
বিশেষ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ
যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া শত শত বাণিজ্যিক জাহাজ ও হাজারো নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা একটি বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তবে সর্বশেষ হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গেজ বলেন, সরিয়ে নেওয়ার তালিকাভুক্ত জাহাজ এবং ওই অঞ্চলে চলাচলকারী অন্যান্য জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত আছে কি না, তা যাচাই করতেই কার্যক্রমটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, হামলার শিকার ‘এভার লাভলি’ জাহাজটি তাদের বিশেষ সরিয়ে নেওয়ার কর্মসূচির আওতায় ছিল না।