মানুষকে হত্যা করা যায়, আদর্শকে নয়: ট্রাম্পের উদ্দেশে ইরানি দূতাবাস

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ ও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানের দূতাবাস। শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাসটি ট্রাম্পের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানায়, মানুষকে হত্যা করা সম্ভব হলেও মানুষের ভেতরের আদর্শকে কখনোই মুছে ফেলা যায় না।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে অত্যন্ত উসকানিমূলক দাবি করেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রয়াত ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির শেষ বিদায় ও জানাজার অনুষ্ঠান যখন কয়েক দিন ধরে চলছিল, তখন মার্কিন প্রশাসন চাইলে এক আঘাতেই সেখানে সমবেত হওয়া সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারত। তবে ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভবিষ্যৎ সুযোগ ও পথ খোলা রাখার স্বার্থেই চরম এই পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত ছিল।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সাধারণ মানুষের শোক প্রকাশের ধরন নিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, তার পূর্ব ধারণা ছিল যে ইরানের সাধারণ জনগণ খামেনিকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করে; কিন্তু বাস্তবে লাখ লাখ মানুষের ঢল তার সেই ধারণার বিপরীত চিত্র প্রদর্শন করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের পরই কূটনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় তেহরান। আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে একটি কড়া ও রূপক বার্তা পোস্ট করে। সেখানে তারা উল্লেখ করে, "মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। আপনি আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে আপনি এমন একটি সুগন্ধির বোতল ভেঙেছেন, যার সুবাস এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।" ট্রাম্পের ইতিহাস ও সংস্কৃতির জ্ঞান নিয়ে কটাক্ষ করে দূতাবাসটি আরও যোগ করে, "এসব গভীর বিষয় আপনি কখনোই অনুধাবন করতে পারবেন না, কারণ আপনার মাঝে নেই কোনো সভ্যতা, নেই কোনো ইতিহাস এবং নেই কোনো সম্মান।"

উল্লেখ্য, ইরানের প্রয়াত শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা ও বিদায় জানাতে দেশটিতে ৩ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও বিশেষ আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়েছে। এই মহাসমাবেশে ইরান সরকারের শীর্ষ পর্যায়, সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আমন্ত্রিত প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা অংশ নিচ্ছেন। এমন এক সংবেদনশীল সময়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং ইরানের পাল্টা জবাব ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিল।

তাসনিম হোসেন