কলকাতায় মুসলিম কিশোরীকে ধর্ষণের পর জ্যান্ত বস্তাবন্দি করে পুকুরে হত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ এএম

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির বারুইপুরে এক মুসলিম কিশোরীকে পাশবিক ধর্ষণের পর নিথর দেহ নয়, বরং জীবিত ও অজ্ঞান অবস্থাতেই বস্তাবন্দি করে পুকুরের পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার আসা ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পুলিশ এই শিউরে ওঠার মতো তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মৃত কিশোরীর ফুসফুসে কাদা ও পানি পাওয়া গেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুর পর কোনো লাশ পানিতে ফেলা হলে ফুসফুসে পানি ঢোকে না; কেবল জীবিত অবস্থায় পানিতে ডুবলেই শ্বাস নেওয়ার চেষ্টার কারণে ফুসফুসে পানি ও কাদা ঢোকা সম্ভব। ফলে তদন্তকারীদের ধারণা স্পষ্ট যে, যখন মেয়েটিকে পুকুরে ফেলা হয়, তখনও তার দেহে প্রাণ ছিল। তবে পানিতে ডোবানোর আগে সে ভয়াবহ ও পাশবিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, কিশোরীর যৌনাঙ্গে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার মাথায় ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল বা শক্ত কোনো স্থানে মাথা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পরবর্তীতে পানিতে ডুবে শ্বাসরোধ হওয়াই কিশোরীটির মৃত্যুর মূল কারণ। গত শনিবার গভীর রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে চিকিৎসকদের ধারণা।

সিসিটিভি ফুটেজ ও গ্রেপ্তারকৃতদের বয়ান খতিয়ে দেখে পুলিশ পুরো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে সূর্যপুর বাজারের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল ওই কিশোরী। তার ঠিক পেছনেই ছিল প্রভাস মণ্ডল নামের এক স্থানীয় মাদকাসক্ত যুবক। রোববার সকালে ওই বাজার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি পুকুর থেকে কিশোরীর তার দিয়ে বাঁধা বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হয়।

প্রধান অভিযুক্ত প্রভাসকে গ্রেপ্তারের পর তার বয়ানে বিস্তর অসঙ্গতি পেয়েছে পুলিশ। প্রভাস প্রথমে ঘটনা অস্বীকার করলেও পরে দাবি করেন, আনন্দ সর্দারসহ কয়েকজন ওই কিশোরীকে অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল এবং আনন্দই তাকে খুন করেছে। কিন্তু পুলিশি জেরায় প্রশ্ন ওঠে, প্রভাস যদি ঘটনাস্থলে নাই-ই থাকবেন, তবে খুনের পদ্ধতি ও লাশ ফেলার জায়গা তিনি জানলেন কীভাবে? পুলিশ ধারণা করছে, অভিযুক্তরা সবাই ঘটনার সময় তীব্র নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল।

তদন্তকারীরা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি মূল সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। প্রথমত, নির্যাতিতা এবং অভিযুক্তরা একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় কিশোরীটি সবাইকে চিনে ফেলেছিল, তাই প্রমাণ লোপাট করতে এই খুন। দ্বিতীয়ত, শনিবার রাত আটটা থেকেই যখন পরিবার কিশোরীর খোঁজ শুরু করে, তখন ধরা পড়ার ভয়ে তড়িঘড়ি করে তার মাথায় আঘাত করে অজ্ঞান করা হয় এবং বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতের এক প্রতিবেশীর দাবি, তার দিয়ে বাঁধা বস্তাটি একপাশে ছেঁড়া ছিল, যা প্রমাণ করে বাঁচার জন্য মেয়েটি শেষ মুহূর্তেও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা। তারা বলেছেন, শুভেন্দু অধিকারী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলিমদের ক্রমশ দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ট্রিট করছে সরকার। হিন্দু যুবকরা মুসলিম নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুন করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বিচার চাইতে সংঘবদ্ধ হলে উল্টো মুসলিমদের আটকাচ্ছে পুলিশ। অনেক মুসলিম বলেছেন, ‘আমরা কি ন্যায়বিচারের দাবিও জানাতে পারব না?’

তাসনিম হোসেন