শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে ১৮ দিনে পাওয়া গেছে ৪৭ লাখ টাকার বেশি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ এএম

সিলেটের আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স খুলে ১৮ দিনে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ, রূপা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও পাওয়া গেছে। শনিবার দিনভর গণনা শেষে মাজার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় সিলগালা করা দানবাক্স ও ডেগ খোলা হয়। পরে চার বস্তা নগদ অর্থ বের করে দিনভর গণনার কাজ পরিচালনা করেন শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, এবার দানবাক্স থেকে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০ ও ৫০ টাকার নোটের পরিমাণই ছিল সবচেয়ে বেশি।

নগদ অর্থ ছাড়াও দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ৫৪ দশমিক ২ দিরহাম, ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, ৪ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া, ২০ মার্কিন ডলার, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১০ সিঙ্গাপুর ডলার, ২২ কাতার রিয়াল, ৬ মালয়েশীয় রিঙ্গিত এবং ৬০ পাকিস্তানি রুপি।

এ ছাড়া দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ ধাতু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপাও উদ্ধার করা হয়েছে।

মাজার কমিটি জানায়, ভক্তদের দেওয়া একটি গরু লঙ্গরখানায় জবাই করে রান্নার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পাওয়া ৬৫টি ছাগলের মধ্যে ৪০টি রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং বাকি ২৫টি বিক্রি করে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা আয় হয়েছে।

এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হলে মাত্র চার দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ কমিটির তত্ত্বাবধানে সংগৃহীত সব অর্থ সোনালী ব্যাংকে জেলা প্রশাসকের নামে খোলা নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হবে।

 
 

তাসনিম হোসেন