মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। ইরানি ভূখণ্ডে টানা নবম রাত ধরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার (২০ জুলাই) ভোররাতে এই দফার হামলা শেষ হয় বলে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। তবে ওয়াশিংটনের এই তীব্র সামরিক চাপ উপেক্ষা করে সমানতালে পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে তেহরানও। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ক্র
মার্কিন ঘাঁটিতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরাক ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১ জন নিখোঁজ এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের উপর্যুপরি ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং ঘাঁটির এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেন্টাগন এখনও তাদের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
বেসামরিক বনাম সামরিক লক্ষ্যবস্তু
যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, তখন ইরান মূলত কুয়েত ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করছে। তেহরানের অভিযোগ, এসব দেশের মার্কিন ঘাঁটি থেকেই মূলত ইরানের ওপর বিমান হামলাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের শঙ্কা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ গুদামে এখনও অন্তত ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন মজুত রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, শুধুমাত্র বিমান হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরোধ ভেঙে দেওয়া বা এই জলপথ উন্মুক্ত রাখা অসম্ভব।