২০২৬ বিশ্বকাপ: গ্যালারিতে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোয় বাধা ও ফিফার দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পতাকা বহনকারী দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে বাধা এবং হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সমর্থক দাবি করেছেন, স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করতে নিষেধ করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে তা বাজেয়াপ্ত করারও হুমকি দিয়েছেন।

ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো দেশের বৈধ জাতীয় পতাকা বহনের অনুমতি রয়েছে। তবে দর্শকদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি পতাকার ক্ষেত্রে এই নিয়মের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না এবং ফিলিস্তিনি পরিচয় বা প্রতীক বহনকারীদের আলাদাভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপে ফিলিস্তিন দল অংশ না নিলেও, গাজায় চলমান পরিস্থিতির প্রতি সংহতি জানাতে আরব দেশগুলোর সমর্থকসহ বহু সাধারণ দর্শক গ্যালারিতে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করছেন। ওকল্যান্ডের ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সংগঠক মাইসা মোরা অভিযোগ করেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফার দেওয়া অস্পষ্ট বার্তার কারণেই নিরাপত্তাকর্মীরা দর্শকদের বাধা দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন।

ওমরের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ওমর দ্রেইদি জানান, লেভিস স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখতে গেলে এক নিরাপত্তাকর্মী তাকে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে নিষেধ করেন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর তিনি পতাকা রাখার অনুমতি পান।

এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়ার পর আরও অনেক সমর্থক একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ফিলিস্তিনের পতাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দ্রেইদি দর্শকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সম্ভব হলে ভিডিও প্রমাণ রাখা জরুরি।

ফিফার নীরবতা ও ‘দ্বিমুখী নীতি’র সমালোচনা

এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা)-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে মানবাধিকার ও অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বৈশ্বিক ইস্যুতে ফিফা দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে। তাদের দাবি—ইউক্রেন সংকটের পর ফিফা যেভাবে দ্রুত রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করেছিল, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের বিরুদ্ধে তারা তেমন কোনো পদক্ষেপ তো নেয়ইনি, উল্টো ফিলিস্তিনের প্রতি মানবিক সংহতি প্রকাশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে নানা বিতর্কের পরও ওমর দ্রেইদি ও মাইসা মোরা মনে করেন, বিশ্বকাপের গ্যালারিতে ফিলিস্তিনের এই পতাকা ওড়ানো বৈশ্বিক সংহতি, সমতা এবং মানবিকতার এক অনন্য বার্তা দিচ্ছে।

তাসনিম হোসেন