পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দিচ্ছে ভারত: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

ভারতের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বহু মানুষকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে বহু নারী, পুরুষ ও শিশু সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় মানবিক সংকটে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, এসব ঘটনায় বিশেষ করে বাঙালি মুসলিম জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরু থেকে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী একাধিকবার সীমান্ত দিয়ে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টা প্রতিহত করেছে। এসব ঘটনায় শিশু, নারী ও পুরুষসহ কয়েক শত মানুষ সীমান্তবর্তী এলাকায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

মানবাধিকার সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি ঘটনায় রাতের অন্ধকারে সীমান্তে মানুষ নিয়ে এসে তাদের বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা বাধা দিলে অনেক ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিদের আবার ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু মানুষ দীর্ঘ সময় সীমান্তের মধ্যবর্তী এলাকায় আটকে ছিলেন। সেখানে তাদের খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে হয়েছে এবং খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, নাগরিকত্ব বা জাতীয়তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তা নির্ধারণের জন্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি মানুষকে সীমান্তে পাঠানোর অভিযোগ উদ্বেগজনক।

সংস্থাটির এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীণাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে তার পরিচয় যাচাই ও আইনি অধিকার প্রয়োগের সুযোগ না দিয়ে বহিষ্কার করা মানবাধিকারের পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনগত সহায়তা, আপিলের সুযোগ এবং পরিচয় যাচাইয়ের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সীমান্তে শিশুদের আটকে রাখা বা অনিশ্চিত অবস্থায় ফেলে রাখা আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শিশুদের নিরাপত্তা, পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, যথাযথ যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না। তাদের মতে, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যে কোনো কার্যক্রম দুই দেশের স্বীকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্পন্ন হওয়া উচিত।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় নিরীহ মানুষদের মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।

 
 

তাসনিম হোসেন