১১০ দিনের মাথায় শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ ও হত্যার বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন মাস পর আদালত একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। আজ থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

দেশব্যাপী আলোচিত শিশু তাবাচ্ছুম হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট আদালত। সরকারের বিশেষ নির্দেশনার আলোকে ঘটনার ১১০ দিনের মাথায় মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহেরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৬ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। আজ বুধবার থেকে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের স্থানীয়ভাবে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত শিশুর পরিবারের বাসার পাশেই তিনি ভাড়া থাকতেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের কক্ষে নিয়ে যান আসামি। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পরে ঘটনাটি গোপন করতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে নিকটবর্তী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একই রাতে কুষ্টিয়া থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান তাবাচ্ছুমের পরিবার দ্রুত বিচার ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা করছেন।

 
 

তাসনিম হোসেন