টেকনাফের একরামুল হত্যা: সেনা হেফাজতে সাবেক র‍্যাব কর্মকর্তা মিফতাহ উদ্দিন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালের বহুল আলোচিত টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত তৎকালীন র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক এবং বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে বরিশাল থেকে ঢাকায় এনে সেনাকাস্টডিতে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

সোমবার রাতে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বরিশাল অফিসার্স মেস থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেনা হেফাজতে নিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে তিনি বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তাকে ঢাকা সেনানিবাসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। প্রচলিত দেশের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের মে মাসে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযานের নামে পৌর কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি একরামুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময়কার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই পরিবার ও বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ ও বিচারের দাবি জানানো হলেও দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ২০২১ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ এনে যেসকল বাংলাদেশি কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা বিধি নিষেধ আরোপ করেছিল, সেই তালিকায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আইএসপিআর সূত্রে আরও জানা গেছে, এই হত্যা মামলাটি এখন আইনি ও বিচারিক কাঠামোর একটি নতুন মোড়ে এসে পৌঁছেছে। জানা যায়, গত রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল পলাতক ও অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মূলত সেই পরোয়ানা জারির পরই দ্রুততার সঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও প্রকাশ পায় যে, কাউন্সিলর একরামুল হককে যেভাবে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, ওই পুরো অপারেশনকালে ঘটনাস্থলে স্বয়ং মিফতাহ উদ্দিন আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে এই মর্মে তথ্য প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব দ্রুতই পরবর্তী নির্ধারিত শুনানির দিন তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তাসনিম হোসেন