শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগকে জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলতে পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের বিকাশ জরুরি। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও কার্যকর করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। ধাপে ধাপে চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে এবং সাঁতারকে পাঠ্যক্রমের অংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, ব্যবহারিক পাঠদান ও মূল্যায়নের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াচর্চায় সম্পৃক্ত করা হবে। এতে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালার আওতায় দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রতিযোগিতায় ছেলে ও মেয়ে উভয় দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। চলতি বছরে সারা দেশে দুই বিভাগের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী ও আয়োজনের ব্যাপ্তির দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল প্রতিযোগিতাগুলোর অন্যতম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর সুফল হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ক্রীড়াবিদরা, বিশেষ করে ফুটবলাররা, ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের গর্ব হয়ে উঠবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করবে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।