উদ্যোক্তা তৈরির হার কমায় দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত ১২ থেকে ১৫ বছরে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় আয় বৈষম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ রোববার (২৮ জুন ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিডা ভবনে আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এসএমই ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি না হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল কেবল সীমিত কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তার মধ্যেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে। তিনি অতীত ও বর্তমানের একটি তুলনামূলক চিত্র টেনে বলেন, “১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে যে হারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী ১০ থেকে ১৫ বছরে সেই হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলে আগে থেকে প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তারাই আরও বড় হয়েছেন এবং নতুনরা পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি। এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট।” এর ফলেই আন্তর্জাতিক আয় বৈষম্য সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় আরও বৈষম্যমূলক হয়েছে।

জিডিপিতে অবদান ও আঞ্চলিক তুলনা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের জিডিপিতে এমএসএমই খাতের অবদান বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান মাত্র ২০ শতাংশের কাছাকাছি। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এই অবদান দ্রুত বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গ্যাস সংকট ও সরকারের নতুন পরিকল্পনা শিল্পায়নে জ্বালানির সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে কম জ্বালানি ব্যবহার করে এমন শিল্পে বিনিয়োগকে সরকার বেশি উৎসাহ দেবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে গ্যাস সংকট নিরসনে কাজ চলছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার এখন মেন্টরশিপ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। যেসব শিল্প পার্কে ইতিমধ্যে প্লট বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাই করে নতুন শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হবে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবসের প্রতিপাদ্য ‘এআইনির্ভর ভবিষ্যতে মানুষমুখী অন্তর্ভুক্তি: আগামী প্রজন্মের এমএসএমই খাতের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগে প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল, আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে তাদের বক্তব্য ও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তাসনিম হোসেন