আজ ১ জুলাই, ঐতিহাসিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকী। দুই বছর আগে আজকের এই দিনেই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে এক ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আজ দেশজুড়ে গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে এই আন্দোলনের শহীদ ও বীরদের।
আন্দোলনের সূত্রপাত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির সূচনা
দুই বছর আগের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তৎকালীন সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার এবং মেধার সঠিক মূল্যায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি শুরু করেন। শুরুতে এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন হিসেবেই অগ্রসর হচ্ছিল। দেশের সর্বস্তরের তরুণ সমাজ এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে শুরু করে।
সহিংস দমন-পীড়ন ও আন্দোলনের মোড় পরিবর্তন
peaceful বা শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন দ্রুতই এক ভিন্ন ও রক্তক্ষয়ী রূপ ধারণ করে, যখন তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীণ দলের ছাত্র সংগঠন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এসে আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে দমন-পীড়নের মাত্রাও চরম আকার ধারণ করে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি চালানো হলে শত শত নিরপরাধ শিক্ষার্থী, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ এবং পথচারী প্রাণ হারান।
এই নজিরবিহীন রক্তপাত ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন সাধারণ মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। ফলে আন্দোলন আর কেবল শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সন্তানহারা পিতা-মাতা, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং আপামর জনতা দলে দলে রাজপথে নেমে আসেন।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও চূড়ান্ত বিজয়
তৎকালীন সরকারের তীব্র দমন নীতির মুখে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তর করে। কোটা সংস্কারের প্রাথমিক দাবিটি অতি দ্রুত রূপান্তরিত হয় সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে। সারা দেশের মানুষের তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের অকাতর আত্মত্যাগ এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের একতাবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। অর্জিত হয় ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের চূড়ান্ত বিজয়।
দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জাতির গভীর শ্রদ্ধা
আজ ২০২৪ সালের সেই ঐতিহাসিক ১ জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গোটা জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে সেইসব অকুতোভয় বীর ও শহীদদের, যাদের রক্তের বিনিময়ে এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি, স্মরণসভা ও দোয়ার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে। দেশের মানুষের কাছে ১ জুলাই এখন আর কেবল একটি সাধারণ তারিখ নয়, বরং তা অন্যায়, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এক অবিস্মরণীয় প্রতীক।