জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নাগরিক সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক: রুহুল কবীর রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ কেবল রাজনৈতিক স্মারক নয়, বরং এটি নাগরিক সাহস ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, সংকটের মুহূর্তে মানুষের দেখানো সাহস ও সংহতি প্রমাণ করেছে যে জাতীয় স্বার্থ মুখ্য হলে সব বিভাজন অতিক্রম করা সম্ভব। এই সম্মিলিত চেতনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল সংবিধান সংশোধন বা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানো যায় না। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে শেখ হাসিনার অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি মূল বিষয় হলো মানুষের মানসিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন।

রাজনীতিবিদদের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, মতাদর্শগত তর্ক-বিতর্ক থাকলেও রাষ্ট্রকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া থেকে বাঁচাতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একটি ‘কমন পয়েন্টে’ আসতেই হবে। মানসিকতার এই পরিবর্তন না ঘটলে কোনো আইন বা সংবিধান সংশোধনই শেষ পর্যন্ত কার্যকর ফল দেবে না। একটি জাতির প্রকৃত ভিত্তি কেবল ভূখণ্ড বা অর্থনীতির ওপর নয়, বরং ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধের ওপর গড়ে ওঠে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিহাসকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদে ব্যবহার না করে সত্যের প্রতি আনুগত্য ও সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

ছাত্র-তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। আদর্শিক বোধ বুকে ধারণ করলে সাফল্য আসবেই। বক্তব্যের শেষে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তাসনিম হোসেন