দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হলেও এর জন্য সুসংগঠিত আইনি প্রস্তুতি ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।
সোমবার নিজের ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক বিশ্লেষণে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শিশির মনির বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশকে এখনই প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশে দুর্নীতি, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক মামলা রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিশির মনিরের মতে, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি এবং ১৯৭৪ সালের প্রত্যর্পণ আইনের আলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রত্যর্পণ সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা জরুরি।
তার ভাষায়, আবেদনের সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত প্রতিবেদন, অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা এবং অভিযুক্তের পরিচয় সংক্রান্ত নথি সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে এসব নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ ও যথাযথভাবে সত্যায়িত থাকা বাধ্যতামূলক।
শিশির মনির বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত সাধারণত দেখবে অভিযোগের আইনি ভিত্তি, অপরাধের প্রকৃতি এবং বিচার প্রক্রিয়া ন্যায়সংগত হবে কি না। এসব মানদণ্ড পূরণ করতে পারলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।
তিনি অতীতের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে এর আগেও একাধিক আসামিকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা সফল প্রত্যর্পণের নজির হিসেবে বিবেচিত।
সবশেষে তিনি মত দেন, বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণের সাফল্য নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—শক্তিশালী আইনি নথি, তথ্যের নির্ভুল উপস্থাপন এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। এই তিনটি ক্ষেত্র যথাযথভাবে পরিচালিত হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।