ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন বৈঠক, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের আশা, এই আলোচনা সীমান্ত সংঘাত কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ সুগম করবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী ২৩ ও ২৫ জুন ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের নিয়ে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার আগে দুই পক্ষ সীমান্ত এলাকায় পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা জানিয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলাগুলোতে কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে সংলাপকে লেবাননের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, আসন্ন বৈঠকগুলোর লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা এবং সীমান্ত উত্তেজনা কমিয়ে আনা। ওয়াশিংটন মনে করছে, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ ও রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দীর্ঘ বিরতির পর ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় বসেন। পরবর্তী পর্যায়ের সংলাপের পর সীমিত সময়ের জন্য সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা এলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি।

লেবানন সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম সীমিত করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করা না গেলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে। তবে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠককে দুই দেশের মধ্যে নতুন আস্থার পরিবেশ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আশাবাদী, আসন্ন আলোচনা আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তাসনিম হোসেন