সরকার সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, নতুন সংকট তৈরি হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিয়ে মানুষের যে উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল-ফালাহ মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অভ্যুত্থানের পর মানুষ বিশ্বাস করেছিল, ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি মৌলিক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু অতীতে যে শাসনব্যবস্থা ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল, তার মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সংলাপের পর যে সংস্কার সনদ তৈরি হয়েছিল, তার ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন করা হয়নি।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার এখন তা থেকে সরে এসেছে, যার ফলে জাতীয় জীবনে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “দেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও জুলুম-নিপীড়ন বেড়েই চলেছে। মানুষের জানমাল ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থাকা সত্ত্বেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর অগ্রগতি নেই।” এই সময় তিনি বিরোধী দল হিসেবে জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো সরকারি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সমানতালে আন্দোলন এবং প্রয়োজনে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।

বক্তব্যের শুরুতে আশুরার তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হযরত মুসা (আ.)-এর মুক্তি এবং কারবালায় ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাত আমাদের জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও সত্য প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। আল্লাহর দেওয়া ন্যায়ভিত্তিক বিধান অনুসরণ করলেই মানবজাতির প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত না করে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চায়। দেশের এই বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে সুশাসন, দক্ষতা, জবাবদিহি ও দেশপ্রেমভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জামায়াতের লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তাসনিম হোসেন