সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ, ১৬ জুলাই পরবর্তী শুনানি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

১১ কোটি টাকারও বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এসব সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দেন। তবে প্রধান আসামি পলাতক থাকায় সাক্ষীদের জেরা করা সম্ভব হয়নি।

দুদকের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, বুধবার আদালতে জবানবন্দি দেওয়া ছয় সাক্ষী হলেন—নারায়ণগঞ্জের জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল হাফিজ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর মহাদেবপুরের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলাম, ভোলার চরফ্যাশনের সাব-রেজিস্ট্রার কাওসার খান, বাড্ডার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম এবং বন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুস সালাম।

এর আগে গত ২৩ জুন এই মামলায় প্রথম দফায় আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছিল। মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে অর্ধেক অর্থাৎ ১৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া শেষ হওয়ায় আদালত আগামী ১৬ জুলাই পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

দুদকের তদন্ত ও আয়ের অসঙ্গতি

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের (২০২৫ সালের) ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মোট ১২ কোটি ২০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে দুদকের গভীর তদন্তে তার নামে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদের অকাট্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে তার বৈধ আয়ের তুলনায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ font-size হাজার ৫৭৬ টাকার অতিরিক্ত অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে, যা তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং স্থানান্তর বা মানিলন্ডারিং করেছেন।

পরিবারসহ একাধিক মামলা ও দুবাইতে গ্রেপ্তার

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক এই আইজিপির পাশাপাশি তার স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা ও তাহসিন রাইসার বিরুদ্ধেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে পৃথক আরও চারটি মামলা করেছে দুদক।

উল্লেখ্য, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদ গত ১২ জুন ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দেশটির পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আমিরাত কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তাসনিম হোসেন