কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ তিন কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলিসহ দুজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ রোববার (২৮ জুন ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

কাদের কী সাজা হলো? ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী মামলার আসামিদের সাজা নিম্নরূপ:

  • মৃত্যুদণ্ড (৩ জন): ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান।

  • যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (১ জন): রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

  • ২০ বছরের কারাদণ্ড (১ জন): রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার।

আদালতের কার্যক্রম ও সরাসরি সম্প্রচার আজ বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে এই মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তোলা হয়। মামলার বাকি চার আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে রায়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম রায়ের কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি চাইলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন এবং এটি সরাসরি দেখানো হয়। প্রথমে আসামিদের রায় পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার। এরপর চার্জ বা অভিযোগসমূহ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক এনাম এবং সবশেষে মূল রায় ও সাজা ঘোষণা করেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

নৃশংস সেই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট মামলার এজাহার ও অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রামপুরায় ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। সে সময় পুলিশি অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে আমির হোসেন নামের এক যুবক একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে ওপর থেকে নিচে লাফ দিতে বাধ্য করে। নিষ্ঠুরতার এখানেই শেষ নয়, আমির যখন ভবনের কার্নিশের রড ধরে কোনোমতে ঝুলে ছিলেন, তখন তাকে লক্ষ্য করে ওপর্যুপরি গুলি ছোড়া হয়, যা তার দুই পায়ে গিয়ে লাগে। পরবর্তীতে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়। একই দিনে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নামের আরও দুই আন্দোলনকারী নিহত হন। সেই বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারার্থেই আজ ট্রাইব্যুনাল এই দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করলেন।

তাসনিম হোসেন