গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরার একটি বড় ভুলের মূল্য চুকিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে উরুগুয়েকে। গুয়াদালাহারায় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়েছে। অন্যদিকে টানা জয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।
ম্যাচের ৪২তম মিনিটে আলেক্স বায়েনার তুলনামূলক দুর্বল শট তালুবন্দি করতে গিয়ে ভুল করেন মুসলেরা। তার হাত ফসকে বল জালে ঢুকে গেলে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত ওই একমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
এই জয়ের ফলে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে স্পেন। ফলে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও এড়িয়ে গেছে তারা।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে সৌদি আরবের সঙ্গে গোলশূন্য সমতায় থেকে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে গ্রুপের সেরা অবস্থানে থেকেও প্রথম পর্বেই বিদায় নিতে হয়েছে উরুগুয়েকে। কোচ মার্সেলো বিয়েলসার দলের জন্য এটি ছিল হতাশায় ভরা একটি আসর। কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্রয়ের পর থেকেই দলের ভেতরে অসন্তোষের খবর সামনে আসে। ফেদেরিকো ভালভার্দেসহ কয়েকজন অভিজ্ঞ ফুটবলার কোচের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ম্যাচটি দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের রাজা ফেলিপে। তবে দুই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নের লড়াই প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারেনি।
বল দখলে আধিপত্য থাকলেও আক্রমণে খুব বেশি ধারালো ছিল না স্পেন। অন্যদিকে ২০১০ বিশ্বকাপে উরুগুয়েকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মুসলেরা আবারও বড় ভুল করেন। এর আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষেও তার ভুলে দুটি গোল হজম করেছিল উরুগুয়ে।
উরুগুয়ের দুর্ভাগ্য আরও বাড়ে যখন মাঝমাঠের খেলোয়াড় মানুয়েল উগার্তে হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। বিরতির পর কোচ বিয়েলসা মুসলেরার পরিবর্তে সার্জিও রোচেতকে নামান। পরে মাঠ ছাড়েন ভালভার্দেও।
ম্যাচের শেষ দিকে স্পেন আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও দানি ওলমো ও ফেরান তোরেস সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি। লামিনে ইয়ামালও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মাঠ ছেড়ে যান।
যোগ করা সময়ে আগুস্তিন কানোব্বিও সরাসরি লাল কার্ড দেখলে উরুগুয়ের হতাশা আরও গভীর হয়।
টানা ৩৪টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থাকা স্পেন চলতি বিশ্বকাপে এখনো কোনো গোল হজম করেনি। তবে জয়ের ধারা ধরে রাখলেও দ্বিতীয় বিশ্বশিরোপার লড়াইয়ে দলটির পারফরম্যান্স এখনো আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের মতো শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর তুলনায় খুব বেশি দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠেনি।