কর্ণফুলী টানেলে আয়ের চেয়ে ব্যয় দ্বিগুণ, সংসদে সেতুমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম

কর্ণফুলী টানেল। ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল) থেকে প্রতি মাসে যে পরিমাণ টোল আদায় হচ্ছে, তার প্রায় দ্বিগুণ টাকা ব্যয় হচ্ছে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান।

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, কর্ণফুলী টানেল থেকে বর্তমানে মাসিক গড়ে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হচ্ছে। বিপরীতে এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে ৬ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৯১ টাকা। টানেলের ভেতরে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, আলোকসজ্জা, জটিল বায়ু চলাচল ব্যবস্থা (ভেন্টিলেশন), অগ্নিনিরাপত্তা, সিসিটিভি এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো অত্যাবশ্যকীয় ও উচ্চপ্রযুক্তির সেবার কারণে এই পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক অনেক বেশি।

তবে সরকার এই ব্যয় কমাতে উদ্যোগী হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, টানেল চালুর প্রথমদিকে দৈনিক পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। পরবর্তীতে সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপে কম গুরুত্বপূর্ণ খাতের খরচ কমিয়ে বর্তমানে দৈনিক ব্যয় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। টানেলটিকে দ্রুত লাভজনক করতে সরকারের আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবহন খাতের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা:

একই অধিবেশনে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী দেশের সড়ক ও যোগাযোগ খাতের আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন:

  • গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প: সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪০-এর সংসদ সদস্য নাজমুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাজধানীর যানজট কমাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার করিডরে দেশের প্রথম বিআরটি (বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট) দ্রুত চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিতে প্রকল্পটি আরও উন্নত করার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় আছে।

  • গণপরিবহনে জিপিএস স্থাপন: মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গণপরিবহনে জিপিএস (GPS) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে। এর ফলে গতিসীমা লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

  • ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নীতিমালা: সংরক্ষিত আসন-৩৫-এর সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে মহাসড়কের পরিবর্তে স্থানীয় ফিডার সড়কে সীমাবদ্ধ রাখতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং কঠোর রুট নিয়ন্ত্রণসংবলিত 'থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় যানবাহন পরিচালনা নীতিমালা' প্রণয়নের কাজ চলছে।

  • ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণ: ফিটনেসের মেয়াদ ১০ বছর আগে শেষ হওয়া যানবাহন সড়ক থেকে অপসারণ ও নিবন্ধন বাতিল করা হচ্ছে। আর যাদের মেয়াদ ৫ বছর আগে শেষ হয়েছে, তাদের তালিকা পুলিশের কাছে পাঠিয়ে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

  • দ্বিতীয় যমুনা সেতু: জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। সম্ভাব্য তিনটি রুট বিবেচনায় রয়েছে—বগুড়ার সারিয়াকান্দি থেকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ, গাইবান্ধার বালাসী থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত করিডর।

  • রেলওয়ের স্বয়ংক্রিয় ব্যারিয়ার: সংরক্ষিত আসন-১১-এর সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, ঢাকা মহানগরের তিনটি লেভেল ক্রসিংয়ে বুয়েটের সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ব্যারিয়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সব অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ে ক্যামেরা ও স্মার্ট গেট সিস্টেমসহ এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

তাসনিম হোসেন