ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের চার দিন পর এক অলৌকিক ও আনন্দঘন ঘটনার সাক্ষী হলেন উদ্ধারকর্মীরা। তছনছ হয়ে যাওয়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে রোববার (২৮ জুন) এক বাবা ও তাঁর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনা ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে থাকা অন্যদেরও জীবিত উদ্ধারের ব্যাপারে স্থানীয়, ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশটির লা গুইরা শহরের ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তায় কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে যখন ওই দুইজনকে বের করে আনা হচ্ছিল, তখন আশপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। দীর্ঘ চার দিন অন্ধকূপের মতো অন্ধকার ও রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে আটকে থাকায় উদ্ধারের পর বাবা-ছেলে দুইজনকেই ভীষণ দুর্বল দেখাচ্ছিল। উদ্ধার করার পরপরই জরুরি চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁদের মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরানো হয়।
গত বুধবারের আঘাত হানা এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি ও আন্তর্জাতিক সূত্র অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৫০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
সেখানে নিয়োজিত উদ্ধারকর্মীরা গত কয়েকদিন ধরে দৈনিক প্রায় ১২ ঘণ্টা করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বিশেষ সার্চ ক্যামেরা, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নড়বড়ে ধ্বংসস্তূপের ভেতর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতায় নতুন করে ধস নামার ঝুঁকি থাকায় কাজ করতে হচ্ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।
ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক উদ্ধারকর্মী জানান, চার দিন ধরে জল-খাবার ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শরীর মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে তাঁদের পানিশূন্যতা দূর করতে এবং প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

একই এলাকায় কর্মরত মার্কিন উদ্ধারকারী দলও আগের দিন এক মা ও তাঁর নয় মাস বয়সী শিশুকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর এই বাবা-ছেলেকে বের করার আগে উদ্ধারকর্মীরা স্যালাইনের ব্যবস্থা করেন এবং চারপাশের ভারী আবর্জনা ও কংক্রিট সরিয়ে রাস্তা তৈরি করেন।
দুর্যোগপূর্ণ এই সপ্তাহের শেষের দিকে সব মিলিয়ে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় এবং সময় অতিবাহিত হতে থাকায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর সাধারণত প্রথম ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন পার হয়ে গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে কেউ বেঁচে থাকলেও তাঁর জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। আর তাই এখন প্রতিটা সেকেন্ডই উদ্ধারকর্মীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।