রংপুর নগরীতে হোটেলে থালাবাসন রাখার স্থানে পানের পিক ফেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এক হোটেলকর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রংপুর মহানগরীর খামার মোড় এলাকার মেয়রের গলি সংলগ্ন একটি ভাজাপোড়ার দোকানে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দোকানে কাজ করা হোটেলকর্মী শাওন (২৪) ও মালিকপক্ষের একজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত শাওন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার নূরের চক গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মনু ওই হোটেল মালিক আমির হোসেনের ছেলে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, থালাবাসন পরিষ্কারের স্থানে পানের পিক ফেলা নিয়ে মনু ও শাওনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশ জানায়, এরপর মনু হাতুড়ি দিয়ে শাওনের মাথার পেছনে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহায়তায় টহলরত গোয়েন্দা পুলিশ অভিযুক্ত মনুকে আটক করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে মনু দাবি করেন, রাগের মাথায় তিনি শাওনকে আঘাত করেন। তবে তার পরিবার দাবি করেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের মানসিক অসুস্থতার কোনো চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
নিহতের মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।