খামেনির শেষ বিদায়ে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা!

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নিহত ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ভিড়ের কারণে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (৪ জুলাই) জার্মানির সংবাদমাধ্যম ‘ওয়েল্ট’ ইরানের একটি গোপন সরকারি চিঠির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ওয়েল্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গোপন সরকারি চিঠিটি তাদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, চিঠিটি মূলত ইরানের রেডক্রস (রেড ক্রিসেন্ট) এবং দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা। পরবর্তীতে এটি জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইরানের ফার্স্ট ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের দপ্তরে পাঠানো হয়।

ফাঁস হওয়া ওই গোপন চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দীর্ঘ চার মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সর্বোচ্চ নেতার এই সাতদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে নজিরবিহীন এবং অনিয়ন্ত্রিত জনসমাগম ঘটছে। আর এই বিপুল সংখ্যক মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও পদদলিত হয়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ভিড়ের মধ্যে নিখোঁজ হওয়ার এবং মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার তীব্র আশঙ্কার কথাও চিঠিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে এবং নিখোঁজ ও মৃত ব্যক্তিদের তালিকা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন 'বিশেষ টাস্কফোর্স' বা বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জানাজায় কোনো বড় বিপর্যয় ঘটলে মৃতদেহগুলো যেন দ্রুত দাফন করা যায়, সেজন্য তেহরানের প্রধান গোরস্থান ‘বেহেস্ত-ই জাহরা’ কবরস্থানে জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে আরও কয়েক হাজার অতিরিক্ত কবর খনন করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এদিকে তেহরান পৌরসভার এক মাঠপর্যায়ের কর্মীর বরাত দিয়ে জার্মান সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নতুন করে হাজার হাজার কবর প্রস্তুত রাখার বিষয়টি শতভাগ বাস্তব এবং সত্য। পৌরসভার সংশ্লিষ্ট সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ওই কর্মী বলেন, এই ঐতিহাসিক আয়োজনে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে—এমন একটি ধারণা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহলে আগে থেকেই করা হচ্ছিল। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো বর্তমান সময়ের তীব্র গরম বা দাবদাহ। এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে যখন এক কোটিরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে, তখন পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা কেউ সুনির্দিষ্টভাবে অনুমান করতে পারছে না।

ঘোষিত কর্মসূচি ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ প্রথমে রাজধানী তেহরান থেকে শিয়া মুসলমানদের পবিত্র নগরী কোমে নেওয়া হবে। এরপর সেখান থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কফিন নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে। সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুনরায় মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে এবং আগামী ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন সম্পন্ন করা হবে। এই দীর্ঘ রুটের প্রতিটি স্থানেই লাখ লাখ মানুষের জমায়েত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির প্রশাসন।

তাসনিম হোসেন