কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করে লাইন মেরামতের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নীলফামারী-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাকারমাথা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকরা হলেন— নীলফামারী সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার দারিকা চন্দ্র রায়ের ছেলে জয়ন্ত রায় (২৬) এবং সুঠিপাড়া এলাকার মেহের উদ্দিনের ছেলে মুমিন (৫০)। তারা দুজনেই ‘সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় পাকারমাথা এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের সম্প্রসারণ ও মেরামতের কাজ চলছিল। লাইনের মূল বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ না করেই অসাবধানতাবশত শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ৩৩ কেভি লাইনের খুঁটির সঙ্গে সচল থাকা ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শ হলে তারা দুজনেই তীব্রভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে ছিটকে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার দায় নিয়ে শুরু হয়েছে পারস্পরিক দোষারোপ। কিশোরগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নুরুজ্জামান মিয়া দাবি করেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পল্লী বিদ্যুতের কোনো ধরনের অনুমতি বা সমন্বয় ছাড়াই এই ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কাজ করছিল। অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক আখতার হোসেন দুই শ্রমিকের মৃত্যুর সত্যতা স্বীকার করলেও অনুমতি না নেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই অবহেলাজনিত মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তাসনিম হোসেন