৫২৭ কোটি টাকার স্থায়ী বাঁধে দেড় মাসেই ধস, ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধের একটি অংশ উদ্বোধনের দেড় মাসের মধ্যেই পদ্মার স্রোতে ধসে পড়েছে। নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নদীতীর রক্ষায় ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ায় নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার বিকেলে লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হঠাৎ বাঁধের সিসি ব্লক সরে গিয়ে ধস শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই একের পর এক ব্লক পদ্মার স্রোতে তলিয়ে যায়। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ভাঙনের আশঙ্কায় নদীর তীরসংলগ্ন অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, যে বাঁধকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটি এত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।

স্থানীয় বাসিন্দা সাগর, আব্দুল লতিফ খান, রিতা রাণী দে ও মনির চন্দ্র দে জানান, পদ্মার ভাঙনে তারা আগেও বসতভিটা হারিয়েছেন। নতুন বাঁধ নির্মাণের পর নিরাপত্তার আশা জাগলেও দেড় মাসের মাথায় ধস নামায় সেই আস্থা ভেঙে পড়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরুরি মেরামত নয়, পুরো প্রকল্পের নকশা, নির্মাণকাজের মান এবং ব্যবহৃত উপকরণের গুণগত মান স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের আশঙ্কা, বর্ষায় নদীর স্রোত আরও বাড়লে গাঁওদিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।

 
 

তাসনিম হোসেন