ফতুল্লায় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৮

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং ককটেল বিস্ফোরণের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের এই সহিংসতার ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ফতুল্লার হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকায় ফুটবল কেন্দ্রিক এই সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের সূত্রপাত হয়। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ ঈদগাহ সড়ক এলাকার বাসিন্দা ব্রাজিল সমর্থক অপূর্ব এবং আর্জেন্টিনার সমর্থক হাবিবের মধ্যে পূর্ব থেকেই খেলা নিয়ে বিরোধিতা চলে আসছিল। কিছুদিন পূর্বে ব্রাজিলের পরাজয়ের পর হাবিব ও তার সমর্থকেরা আনন্দ উল্লাস ও উপহাস করেছিল, যা মনে ক্ষোভ হিসেবে পুষে রেখেছিল অপূর্বর নেতৃত্বাধীন ব্রাজিলের সমর্থক গোষ্ঠীটি। পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে অপূর্বর সমর্থকেরা উল্লাসে মেতে উঠলে হাবিব ও তার দলবল তীব্র ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর ধাওয়া করে।

এরই জেরে ব্রাজিল সমর্থকেরা একত্রিত ও সংঘবদ্ধ হয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি বাধা দিতে এলে নারীদেরসহ বেশ কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করে। তাণ্ডব চালিয়ে স্থান ত্যাগ করার সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার সমর্থক ও স্থানীয় এলাকাবাসী একজোট হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং কয়েকজন ব্রাজিল সমর্থককে মারধর করে।

এই সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষেরই নারী ও পুরুষসহ অন্তত আটজন মারাত্মকভাবে আহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, বিশ্বকাপের ম্যাচ ও জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষে যারা জড়িয়ে পড়েছে তারা মূলত কিশোর বয়সের। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনার সাথে জড়িত উভয় পক্ষের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তাসনিম হোসেন