স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করার পাশাপাশি এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে চেলসি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখার তিক্ত নজির গড়ল আলবিসেলেস্তেরা।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘স্পোর্টস মোল’ ও ‘ইয়াহু স্পোর্টস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাইনালে রেফারি স্ল্যাভকো ভিনচিচের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করায় ম্যাচের শুরুতেই প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। পরবর্তীতে ম্যাচ নির্ধারিত ৯০ মিনিট অতিক্রম করে অতিরিক্ত সময়ের ৩ মিনিটে গড়ালে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে বসেন তিনি। এতে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড অর্থাৎ লাল কার্ড দেখে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার শেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের।
ম্যাচের একপর্যায়ে ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের চমৎকার এক নকডাউন থেকে নেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। পুরো ৯০ মিনিটজুড়ে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের পোস্ট লক্ষ্য করে একটিও অন-টার্গেট শট রাখতে পারেনি, যা তাদের বাজে পারফরম্যান্সকে স্পষ্ট ফুটিয়ে তোলে।
এনজো ফার্নান্দেজের এই লাল কার্ডের ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়ের সংখ্যা দাঁড়াল তিনে। এর আগে ১৯৯০ সালের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হারের দিনে পেদ্রো মনজোন এবং গুস্তাভো দেজোত্তি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, যা কোনো একক দলের জন্য নির্দিষ্ট একটি ফাইনালে দুটি লাল কার্ডের প্রথম ঘটনা ছিল।
এতদিন পর্যন্ত ফাইনালে সর্বোচ্চ ২টি করে লাল কার্ড নিয়ে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছিল (ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ সালে মার্সেল দেসাই এবং ২০০৬ সালে জিনেদিন জিদান লাল কার্ড পান)। তবে বর্তমান ফাইনালে এনজোর বহিষ্কারের মাধ্যমে এককভাবে এই বাজে রেকর্ডের চূড়ায় স্থান পেল আর্জেন্টিনা।
এছাড়া এই পরাজয়ের ফলে বিশ্বমঞ্চে ফাইনাল হারের বেদনাময় ইতিহাস আরও ভারী হলো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৯৩০, ১৯৯০ এবং ২০১৪ সালের পর এবারও রানার্সআপ হওয়ায় আর্জেন্টিনার ঝুলিতে জমা হলো মোট চারটি ফাইনালে হারের তিক্ততা। এর মাধ্যমে তারা যৌথভাবে জার্মানির সাথে বিশ্বমঞ্চের ফাইনালে সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড স্পর্শ করল। ফলে তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা (১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২) জয়ের পাশাপাশি এই হতাশার পরিসংখ্যানেরও ভাগিদার হতে হলো আলবিসেলেস্তেদের।