জোড়া ধাক্কায় মোদি সরকার: সিজেপির আন্দোলনের পর রাজপথে কৃষকরা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

একদিকে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি রক্ষার দাবিতে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে অবরুদ্ধ কৃষকদের 'দিল্লি চলো' কর্মসূচি, অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিবাদে রাজপথে শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) অভূতপূর্ব আন্দোলন— এই জোড়া ধাক্কায় নজিরবিহীন দ্বিমুখী সামাজিক ও রাজনৈতিক চরম চাপে পড়েছে ভারতের মোদি সরকার।

প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির তীব্র প্রতিবাদে রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত ‘কিষাণ মহাপঞ্চায়েতে’ যোগ দিতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার আবারও অবরুদ্ধ হয়েছেন পাঞ্জাবের শত শত কৃষক। ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ব্যানারে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের একাধিক কৃষক সংগঠন একযোগে এই আন্দোলনের ডাক দেয়। তবে যাত্রা শুরুর পর পরই পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তের ‘শম্ভু সীমানা’য় বিশাল ব্যারিকেড গড়ে কৃষক বহরকে নির্মমভাবে আটকে দেয় হরিয়ানা পুলিশ।

দিল্লিতে ঢোকার সব পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ায় কৃষকেরা শেষ পর্যন্ত শম্ভু সীমান্তকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য নতুন প্রতিবাদ মঞ্চ বানিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। বিকেইউ (শহীদ ভগৎ সিং) নেতা তেজবীর সিং ও কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের অভিযোগ করেন, ২০২৬ সালের শরতে সই হতে যাওয়া প্রস্তাবিত এই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকান সয়াবিন, ভুট্টা, দুগ্ধজাত পণ্য ও মাংসের ওপর থেকে বিপুল শুল্ক তুলে নেওয়ার ছক কষা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সস্তা পণ্য ভারতীয় বাজারে ঢুকলে এবং দুগ্ধ শিল্পে আঘাত আসলে দেশের প্রায় ৮ কোটি গ্রামীণ পরিবার প্রত্যক্ষভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়বে। ফলে এই গোপন চুক্তির সমস্ত নথিপত্র অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশের কড়া আলটিমেটাম দিয়েছেন কৃষক নেতারা।

অন্যদিকে, দিল্লি শহরের কেন্দ্রস্থলে সরকারের জন্য দ্বিতীয় বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (এনইইটি)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে তুমুল জনমত গড়ে তুলেছে দলটি। প্রশ্নফাঁসের জেরে হতাশায় একাধিক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ এবং স্বচ্ছতার সুনির্দিষ্ট দাবিতে রাজপথে নেমেছে সিজেপি।

শিক্ষার্থীদের এই অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পূর্ণ সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেছিলেন লাদাখের প্রখ্যাত শিক্ষা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। টানা ২০ দিন অনশনের পর অসুস্থ অবস্থায় দিল্লি পুলিশ তাকে বলপ্রয়োগ করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, যাকে পরিবার 'বেআইনি আটক' বলে আখ্যা দিয়েছে। পরে সোমবার (২০ জুলাই) সোনম ওয়াংচুকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুলিশের ব্যারিকেড ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধের মতো বাধা টপকে মধ্য দিল্লিতে ২০ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী ও অভিভাবক সংসদ ভবন অভিমুখে বিশাল পদযাত্রা শুরু করেন।

সংসদ অভিমুখে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর অমানবিক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে যা মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। পরবর্তীকালে সিজেপি প্রতিনিধিদের সাথে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করলেও সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট দাবি মানতে সায় দেয়নি। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও সংগঠক অভিজিৎ দীপ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও নিট প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না।

তাসনিম হোসেন