দিল্লিতে ফের উত্তাপ: যন্তর-মন্তরে সিজেপির আন্দোলন, ৩ দাবিতে অনড়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের সাথে একদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও তাঁবু গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে আবারও অবস্থান নিয়েছে ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কড়া ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশ যন্তর-মন্তর থেকে আন্দোলনকারীদের মূল মঞ্চ ও তাঁবু জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেটিকে তোয়াক্কা না করে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর থেকেই সিজেপির আহ্বানে আবারও শত শত বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো এলাকা জুড়ে বিপুলসংখ্যক দিল্লি পুলিশ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে অনুষ্ঠিত সিজেপির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক চরম উত্তপ্ত ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা বাধা ভেঙে একপর্যায়ে সংসদ ভবনের অতি সন্নিকটে পৌঁছে যান। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করলে দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য এবং ৬০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আহত হন। দিল্লি পুলিশ জানায়, সহিংসতার অভিযোগে সোমবার প্রায় ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা আইনসম্মত নির্দেশ অমান্য করে অত্যন্ত 'উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক ও সহিংস' আচরণ করেছেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ‘সংসদ চলো’ মিছিলে দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত ও অমানবিক বলপ্রয়োগ করে বহু সাধারণ শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত করেছে।

এই উত্তাল আবহের মধ্যেই সোমবার আন্দোলনের সিজেপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা তাঁর বাসভবনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সিজেপির পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়:

  • শিক্ষা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাঁর স্বাধীন চলাচলে সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার।

  • নিট অনিয়মের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ।

  • ২০২৬ সালের নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে হতাশায় আত্মহত্যা করা সব পরীক্ষার্থীর পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।

বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সিজেপি নেতাদের কাছ থেকে একটি লিখিত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং তারাই আলোচনার এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, মন্ত্রী বিষয়টি উপযুক্ত পর্যায়ে নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলেও কোনো সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেননি; তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই আন্দোলন থামবে না।

এদিকে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও হাসপাতালে অবস্থানরত অবস্থাতেই নতুন বার্তা দিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক মাধ্যমে ওয়াংচুকের একটি হাতে লেখা চিঠি প্রকাশ করেছেন। সেখানে ওয়াংচুক লিখেছেন, শান্তিকামী তরুণদের ওপর পুলিশের নির্মম আচরণের প্রতিবাদে তিনি অনশন অব্যাহত রাখছেন। তরুণ নেতাদের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সংসদ ভবনে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া না হলে কিংবা সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত এই অনশন কর্মসূচি চলবে।

তাসনিম হোসেন