ঢাকার যানজট কমাতে আরও ৭৬টি মোড়ে যুক্ত হচ্ছে এআই ক্যামেরা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

রাজধানীর চিরচেনা যানজট দূর করতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির শরণাপন্ন হচ্ছে সরকার। ঢাকা মহানগর পুলিশের উদ্যোগে প্রাথমিক পর্যায়ে শহরের ৭৬টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রিত সংকেত বাতি এবং পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ জুন (সোমবার) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যান চলাচল ব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ নিয়ে এই রূপরেখা তুলে ধরা হয়। বৈঠকের তথ্যমতে, পুলিশের সাথে যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত থাকবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। মূলত শহরের মূল সড়কগুলোর যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিশ্চিত করেছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আলাদা করে কোনো সরকারি বরাদ্দের দরকার পড়বে না। পুলিশের নিজস্ব অর্থভাণ্ডার থেকেই প্রয়োজনীয় খরচ মেটানো সম্ভব হবে।

এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীর গেট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে এই বাতিগুলো তৈরি করে।

এই বাতিগুলো নিজে থেকে কাজ করলেও জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি মানুষের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও রাখা হয়েছে। এই কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং পুরো কাজের তদারকি করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ৭ মে থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কিছু মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু করে পুলিশ। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারীদের সহজেই চিহ্নিত করতে এই প্রযুক্তিতে বিশেষ নির্দেশনাসামগ্রী বা প্রোগ্রাম যুক্ত করা হয়েছে।

তবে অতীতে ঢাকার সংকেত বাতি ব্যবস্থার ইতিহাস খুব একটা ইতিবাচক নয়। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ষাটের দশকে প্রথমবারের মতো ঢাকায় এই ধরনের বাতি বসানো হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময় সেগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ৬৮টি স্থানে সংকেত ব্যবস্থা স্থাপন করা হলেও তা কাজে আসেনি এবং ২০০৯ সালের মধ্যেই সেগুলো বিকল হয়ে যায়। তাছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থে আরও ৯১টি সংযোগস্থলে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও তা কোনো সুফল দেয়নি। এমনকি ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জাপানি সংস্থা জাইকার সহায়তায় চারটি মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংকেত বসানো হলেও কিছুদিন পরই সেগুলো পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে।

তাসনিম হোসেন