পোশাক কারখানার পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় সরবরাহ করা পানি পান করার পর শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চন্দ্রা এলাকার ‘ড্রেসম্যান লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক তৈরি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সকালের শিফটে কাজে যোগ দেওয়ার পর শ্রমিকরা কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করেন। কিছু সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।

অল্প সময়ের ব্যবধানে অসুস্থ শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থদের উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠায়।

অসুস্থ কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, কারখানার পানিতে দুর্গন্ধ ছিল। ওই পানি পান করার পরপরই তারা অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে শতাধিক শ্রমিক একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হন।

শ্রমিক জাহিদ, মাজেদুল ও তন্নি আক্তার জানান, তারা প্রতিদিন কারখানার সরবরাহকৃত পানি পান করেন। বৃহস্পতিবারও সেই পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেকের মধ্যে অস্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাদের দাবি, দুই শতাধিক শ্রমিক মাথা ঘুরে পড়ে যান, অনেকেই বমি করেন এবং কেউ কেউ অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং কারখানার ভেতরেও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কারখানার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সহকারী মহাব্যবস্থাপক আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, ধারণা করা হচ্ছে কলের পানি পান করার কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তবে কারখানার পানিতে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় বিপুল সংখ্যক শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর চাপ এত বেশি ছিল যে হাসপাতালে স্থান সংকুলান করা কঠিন হয়ে পড়ে। একের পর এক রোগী আসায় দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তাসনিম হোসেন