হাতীবান্ধায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির দায়ের কোপে ২ পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তাঁর দায়ের কোপে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল লতিফ। তাঁদের মধ্যে এসআই রুহুল আমিনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শনিবার সকালে তাঁকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গেন্দুকুড়ি গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ওরফে ‘রাশেদ চোর’-এর বিরুদ্ধে চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা থানার এসআই রুহুল আমিন ও এএসআই আব্দুল লতিফ ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে তাঁর বাড়িতে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান চলাকালীন আসামি রাশেদুল ইসলাম পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি ঘর থেকে দেশি ধারালো দা বের করে দুই পুলিশ অফিসারকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। আসামির উপর্যুপরি দায়ের কোপে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রক্তাক্ত জখম হন এবং এই সুযোগে রাশেদুল ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান। হামলায় এসআই রুহুল আমিনের হাতের কবজিসহ শরীরের একাধিক স্থানে গভীর ও রক্তাক্ত ক্ষত সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে এএসআই আব্দুল লতিফও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে চোট পান।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় সহকর্মীদের উদ্ধার করে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই রুহুল আমিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে রাতেই তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। কিন্তু সেখানেও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের (অপারেশন) প্রয়োজন পড়ায় শনিবার (২৭ জুন) সকালে তাঁকে রংপুরের বেসরকারি হাসপাতাল ‘রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে’ (ডক্টরস ক্লিনিক) ভর্তি করা হয়।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত একজন চিহ্নিত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। আসামির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমাদের দুজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত এসআই রুহুল আমিনের অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে রংপুর ডক্টরস ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করাসহ আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান।

তাসনিম হোসেন