বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা অনার্স-মাস্টার্স পাসের পর কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না: শিবির সভাপতি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা তরুণদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে তিনি এ কথা বলেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের এই বিশেষ নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিবির সভাপতি আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের গড়ে তোলার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, “ canশিক্ষার্থীদের এখন থেকেই চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), জেমিনি (Gemini), পাইথন (Python)-সহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। কারণ এসব আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা ছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বর্তমান বৈশ্বিক চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করা অসম্ভব।” তিনি মনে করিয়ে দেন, সরকার জনগণের করের টাকায় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেয়, তাই শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব হলো নিজেকে শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় বনাম ‘ইন্ডাস্ট্রি-ওরিয়েন্টেড’ শিক্ষা উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, উন্নত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা মূলত ‘ইন্ডাস্ট্রি-ওরিয়েন্টেড’ বা শিল্পমুখী। সেখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোনো বিভাগ চালু করার আগে নিশ্চিত করা হয় যে, ওই বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে কি না। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা হওয়ার পরই কেবল বিভাগ চালু করা হয়। এর ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করে, কারণ ভবিষ্যতে তারাই এসব শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানে নিয়োগ দেবে। আমাদের দেশেও এমন ব্যবস্থার প্রবর্তন জরুরি।

যোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনির। তিনি তরুণদের রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “ canরাজনৈতিক আধিপত্যের দিকে কখনো তাকাবে না। রাজনৈতিক আঁকাবাঁকা বা জটিল পথ কখনো বিবেচনায় নেবে না। কে বিএনপি করে, কে অমুক দল করে, কে জামায়াত বা কে শিবির করে—তা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা প্রাসঙ্গিক তা হলো, দেশের যোগ্য অবস্থানে যোগ্য ব্যক্তিদের বসানোর জন্য আমাদের প্রচুর প্রতিভাবান ও দক্ষ মানুষের প্রয়োজন।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, জবি শিবির সভাপতি আব্দুল আলীম আরিফ এবং সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্র নেতৃবৃন্দ।

তাসনিম হোসেন