কলকাতা বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দোহাই: ভাঙা হচ্ছে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের সংলগ্ন অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক গৌরীপুর জামে মসজিদ ভেঙে ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার থেকে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

ভারতের একটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয়দের কাছে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত এই উপাসনালয়টি প্রায় ১৩৬ বছর আগে নির্মিত হয়। ১৯২৪ সালে কলকাতা বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ারও আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য আশপাশের জমি অধিগ্রহণ করা হলেও মসজিদটি অক্ষত রাখা হয়।

বর্তমানে মসজিদটি বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী রানওয়ের নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্বের তুলনায় এটি অনেক কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

এতদিন স্থানীয় মুসল্লিদের কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি ও বিশেষ অনুমতিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত যানবাহনে করে মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ দেওয়া হতো। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জটিলতার কারণে এখন সেই ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মসজিদটির অবস্থানের কারণে প্রায় তিন দশক ধরে দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ এগোতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় আপত্তি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ২০১৩ সালের আগের পুরোনো যাত্রীসেবা ভবনটি অপসারণ করা হবে। এরপর সেখানে রাজধানী দিল্লির আদলে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক নগরকেন্দ্র ও নতুন যাত্রীসেবা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ভারতে মসজিদ অপসারণ বা উচ্ছেদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ এসব ঘটনাকে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি দাবি করছে, এসব কার্যক্রম অবৈধ দখলমুক্ত করার অংশ। তবে গৌরীপুর জামে মসজিদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক সম্মতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তাসনিম হোসেন