ফেনী শহরের মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে স্ত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় নূর নবী হোসেন (৩০) নামের এক দিনমজুরকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং উদ্ধার করা হয়েছে রক্তমাখা চাকু।
ফেনী শহরের মহিপাল এলাকায় অত্যন্ত নৃশংস এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত নূর নবী হোসেন (৩০) ভোলা সদরের নিচ কাছিয়া গ্রামের আবদুর রবের ছেলে। নদীভাঙনের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে তিনি ফেনীতে এসে বোতল কুড়িয়ে এবং দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত মূল অভিযুক্ত মো. শাহ পরান ফয়সাল প্রকাশ ওরফে সাদ্দাম হোসেন (৪০) দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ নেয়াজপুর গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৬ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচের খোলা আকাশের নিচে দিনমজুর নূর নবী ও তার স্ত্রী বিবি ফাতেমা ঘুমিয়ে ছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত ফয়সাল সেখানে এসে ফাতেমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। স্ত্রীর ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ করেন স্বামী নূর নবী। এ নিয়ে ফয়সালের সঙ্গে নূর নবীর তীব্র বাক্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। উত্তেজনার চরম মুহূর্তে ক্ষিপ্ত হয়ে ফয়সাল তার সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু বের করে নূর নবীর পেটের দুই পাশে এলোপাতাড়ি উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
স্বামীকে বাঁচাতে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় নূর নবীকে উদ্ধার করে প্রথমে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে পথেই তার মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় তৎপর হয়ে ওঠে। সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে দাগনভূঞা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মূল আসামি ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচের একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো চাকুটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাস গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৭টি মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।