মেহেরপুরে এনসিপির সমাবেশস্থলের কাছে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্ধারিত পদযাত্রা ও পথসভার দিন একের পর এক রহস্যজনক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। সকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবিসংবলিত কুশপুত্তলিকা উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এবার সমাবেশস্থলের মাত্র ১০ মিটারের মধ্যে থেকে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও রহস্যের দানা বেঁধেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে একটি পূর্বনির্ধারিত পদযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ঠিক তার আগে থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটতে শুরু করে।

দুপুরের দিকে গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে একটি সবজিভর্তি পরিত্যক্ত ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজনের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। খবর পাওয়া মাত্রই গাংনী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যাগটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ব্যাগটি নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে খুলে দেখা যায়, ভেতরে একটি বোমাসদৃশ বস্তু রয়েছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপদ এড়াতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দ্রুত বস্তুটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় চলে যায়। এই আকস্মিক ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

এর আগে একই দিন ভোরে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনে থেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি এবং বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ লেখা সংবলিত মোট তিনটি কুশপুত্তলিকা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ওই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ যখন তদন্ত শুরু করে, ঠিক তখনই সমাবেশস্থলের কাছাকাছি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসে। একই দিনে সংঘটিত এই দুটি রহস্যজনক ঘটনার কারণে গোটা এলাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাসদৃশ বস্তুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে গেছে। এটি আসলেই কোনো সক্রিয় বিস্ফোরক কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য বোমা বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। এছাড়া, কে বা কারা ঠিক কী উদ্দেশ্যে জনবহুল এই এলাকায় বস্তুগুলো রেখে গেছে এবং সকালে উদ্ধার হওয়া কুশপুত্তলিকা ও দুপুরের এই বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনার মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় সংবাদ লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে না পারলেও পুরো বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

তাসনিম হোসেন