দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে একটি শান্তি রূপরেখায় একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং এর বিনিময়ে খুলে দেওয়া হবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। চুক্তির ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় সম্পন্ন এই চুক্তির বিষয়বস্তু রোববার নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই চুক্তির ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু হতে পারে—এমন খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরপতন ঘটেছে। চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিও সক্রিয় হয়েছে।
ইউরোপের এই চার প্রভাবশালী দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। ইরানের পক্ষ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বাস্তব ও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ সাপেক্ষে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণে দুদেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও আলোচনা চলবে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন। এর পরপরই রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন।'