ইরানের জব্দ অর্থ ফেরত দিতে হবে, না হলে ডলারের প্রতি আস্থা কমবে: ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

ইরানের জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অর্থ শেষ পর্যন্ত ফেরত দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়; আর তা ফেরত না দিলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মার্কিন মুদ্রার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সাত শিল্পোন্নত দেশের জোটের শীর্ষ সম্মেলন শেষে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং ইরানের সম্পদ। তার মতে, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় আস্থা ধরে রাখতে হলে একসময় এই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অন্য দেশের বৈধ সম্পদ ফেরত না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক দেশ ও বিনিয়োগকারী মার্কিন মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে ডলারের অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতার ফলে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী সামরিক তৎপরতা বন্ধ, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে।

ইরানের পুনর্গঠন নিয়ে সম্ভাব্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে না। বরং ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করলে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখালে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ভবিষ্যৎ আচরণ ও পদক্ষেপের ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি অনুকূলে গেলে ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।

এ ছাড়া ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চলমান উত্তেজনার কারণে ইরানের অর্থনীতিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে দেশটি আবারও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে উভয় পক্ষের আরও আলোচনা প্রয়োজন বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, আগামী দিনের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোবে।

তাসনিম হোসেন