যুদ্ধ বন্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ইরানের সঙ্গে হওয়া বহুল আলোচিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ ১৪ দফা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চুক্তি প্রকাশের পরই আলোচনা শুরু হয়েছে, এতে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেয়েছে তেহরান নাকি ওয়াশিংটন।
বুধবার মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ শিরোনামের নথিটি প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তির বিষয়বস্তু জনসমক্ষে না আনা নিয়ে সমালোচনা চলছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুরো খসড়া প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন কাঠামোর আলোচনার পথ তৈরি করা। একই সঙ্গে ইরান ইতিবাচক ভূমিকা পালন করলে অর্থনৈতিক সুবিধা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় পক্ষ অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি থেকে বিরত থাকবে। পাশাপাশি পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
১৪ দফাতে রয়েছে—
১. যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা অবিলম্বে সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের যুদ্ধ বা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকবে।
২. উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
৩. সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে, প্রয়োজনে সময় বাড়ানো যেতে পারে।
৪. চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার শুরু করবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেবে।
৫. ইরান হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মাইন অপসারণ করবে।
৬. যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
৭. চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।
৮. ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবে।
৯. চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকবে—নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করা হবে না।
১০. ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হবে।
১১. ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ ও তহবিল ব্যবহারের সুযোগ ধাপে ধাপে উন্মুক্ত করা হবে।
১২. সমঝোতা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য একটি যৌথ নির্বাহী ব্যবস্থা গঠন করা হবে।
১৩. এই সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদগুলোর বাস্তবায়ন অবিলম্বে শুরু করা হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে তা চালু রাখা হবে।
১৪. চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।