যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতার খবর প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে ইরানের যেকোনো হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি কাঠামোগত সমঝোতার খবর সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে। তবে এই সম্ভাব্য সমঝোতার মধ্যেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি বাহিনী কোনো অবস্থাতেই সরানো হবে না। তিনি বলেন, ইরান যদি লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েল কোনো আন্তর্জাতিক চাপ কিংবা কূটনৈতিক উদ্যোগের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কয়েকটি আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, এই সমঝোতার সঙ্গে লেবাননে সংঘাত কমানোর বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে। তবে এ আলোচনায় ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেয়নি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তার জোট সরকারের কয়েকজন নেতা বলেছেন, সম্ভাব্য এই সমঝোতার শর্ত ইসরায়েলের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
এ নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারবিরোধী নেতারা অভিযোগ করেছেন, জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে জনগণকে পরিষ্কারভাবে অবহিত করা হয়নি। তাদের মতে, নতুন এই সমঝোতা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট নয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সমঝোতা কার্যকর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এসব আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েল জানিয়েছে, লেবানন, সিরিয়া ও গাজার নির্দিষ্ট নিরাপত্তা অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। দেশটির দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অবস্থান বজায় রাখা হবে।
সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকলেও এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।