নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ‘চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিকে’ নিয়োগ দেওয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এ নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে মো. সামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সংবেদনশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার ভিত্তি নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে অতীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করা একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, সরকারি চাকরিজীবনে কেউ বঞ্চিত হয়ে থাকলে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি বা সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। তবে অবসরের পর প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যুক্ত থাকা একজন ব্যক্তিকে পুনরায় নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় অতিরিক্ত সচিবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ থাকা কোনো ব্যক্তির অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে জামায়াত মনে করে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, এ নিয়োগকে বিএনপির সরকারি গণমাধ্যম সেল প্রকাশ্যে প্রচার ও উদযাপন করছে। জামায়াতের দাবি, এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সর্বজনগ্রাহ্য, নিরপেক্ষ ও বিতর্কমুক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত।