শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে এবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শুনানি শেষে এ আদেশ প্রদান করেন। আদেশের ফলে পূর্বের হত্যা মামলার পাশাপাশি এবার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগেও তাঁকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোজাফফর হোসেনকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয় এবং নির্ধারিত সময় পর্যন্ত হাজতখানায় রাখা হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শোনানো গ্রেপ্তার (আরেস্ট শোন) দেখানোর আর্জি জানানো হয়।
এর আগে প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারক বেঞ্চ গত মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছিলেন, ২৩ জুলাই বেলা ১০টার মধ্যে আসামি মোজাফফর হোসেনকে আদালতে উপস্থিত করতে হবে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে বলা হয়, বিগত সরকারের শাসনামলে সংঘটিত বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এই আদেশের পরপরই তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়; পরবর্তীতে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জমা দেবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাতে দীর্ঘ ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর রাজধানী ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মোজাফফর হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন বিষয়টির সত্যতা প্রকাশ্যে আসে এবং ওই দিন সন্ধ্যায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে সেনা হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়। এর পরপরই ২১ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে ঘটে যাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল ২১ জুলাই। ওই দিন তদন্ত সংস্থা বাড়তি দুই মাস সময় চাইলেও মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে অভিযুক্ত অন্য আসামির যোগসাজশের অভিযোগ উঠায় ট্রাইব্যুনাল নতুন কোনো দিন ধার্য করেননি। সেই ধারাবাহিকতায় তাঁকেও আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ইতিহাস স্মরণ করে বলা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক নৃশংস সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। সামরিক আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত একাধিক সেনা কর্মকর্তার সাজা প্রদান করা হয়, যার অন্যতম প্রধান দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন এই মোজাফফর হোসেন।