বিহার বন্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর একে-৪৭ দিয়ে গুলি, কনস্টেবল বরখাস্ত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিহার বন্ধের সময় সিওয়ান জেলায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে অভিযুক্ত বিহার পুলিশের এক কনস্টেবলকে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভারতের বিহার রাজ্যে সম্প্রতি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ডাকা রাজ্যব্যাপী ধর্মঘট বা 'বিহার বন্ধ'কে কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন জেলায় ছাত্ররা বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিল বের করলে একাধিক স্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই বিক্ষোভের মাঝেই সিওয়ান জেলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচারে গুলি চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যা মুহূর্তেই দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তোলে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও ফুটেজটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছে বিহার পুলিশ সদর দপ্তর। ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্য বিক্ষোভ চলাকালে সরাসরি একে-৪৭ রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ছেন। এই নজিরবিহীন ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরই তাৎক্ষণিকভাবে ওই পুলিশ কনস্টেবলকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পুলিশের এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ১৫ বছর বয়সী মো. আরিফসহ তিন বিক্ষোভকারী বর্তমানে পাটনার জয়প্রভা মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। আহত কিশোর আরিফের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মঘটের দিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সে সংঘাতের মাঝে পড়ে যায় এবং দুর্ঘটনাবশত তার ঘাড়ে গুলি লাগে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে গুলি বের করা হয় এবং বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।

এদিকে এই পুলিশি সহিংসতার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিহারের বিরোধী দলীয় নেতা তেজস্বী যাদব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার মূল ভিডিওটি পোস্ট করে সরাসরি পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান এবং বিহারে একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন যে, বিভিন্ন স্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দমনে একই ধরনের দমনমূলক ছক বা প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব। তাই নির্ধারিত প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও প্রোটোকল লঙ্ঘন করে এ ধরনের মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার একটি বিস্তারিত বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল হাতে আসার পর অস্ত্র ব্যবহার প্রোটোকল যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আর কোনো অতিরিক্ত শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাজ্যব্যাপী সেই ধর্মঘটের দিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট প্রদক্ষিণ করে গান্ধী ময়দানের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের কথা কাটাকাটি শুরু হলে মুহূর্তেই পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যায় এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তাসনিম হোসেন