আগামী সপ্তাহ থেকে গ্যাস সংকট কিছুটা কমতে পারে: প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান গ্যাস সংকট আগামী সপ্তাহ থেকে কিছুটা কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান এবং সাময়িক এই অসুবিধার জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া তীব্র গ্যাস সংকটের নেপথ্য কারণ এবং তা উত্তরণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউতে আকস্মিক কারিগরি ত্রুটির কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সরকার সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমান চাহিদার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। মোট সরবরাহের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসছে দেশীয় বিভিন্ন উৎপাদন উৎস থেকে, আর বাকি ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছিল আমদানিকৃত এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) থেকে।

আমদানি ব্যাহত হওয়ার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ নামক প্রতিষ্ঠানের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আমদানিকৃত গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যাটি সমাধানের আশা করা হলেও পরবর্তীতে ত্রুটির গভীরতা বুঝতে পেরে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আনিয়ে বর্তমানে টার্মিনালটির মেরামত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই এফএসআরইউটির বয়লারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে সরকারের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ অন্তত ৫০ শতাংশ স্বাভাবিক হবে এবং এর পরবর্তী সপ্তাহে তা পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গ্যাসের চলমান ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের বিকল্প উদ্যোগের কথা জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহের কাজ চলছে। পাশাপাশি একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিগত দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উদ্যোগের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। পূর্ববর্তী সরকারগুলো কেবল তাৎক্ষণিক বা সাময়িক সমাধানের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করায় বর্তমান সংকটটি আরও বেশি প্রকট রূপ ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাসনিম হোসেন