দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
মূল প্রতিবেদন:
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয়, দক্ষ জনশক্তি এবং বিশ্ববাজারে মাঝারি আকারের জাহাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, টেকসই নীল অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করতে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনা করা যৌক্তিক হবে। তবে এ শিল্প মূলধননির্ভর হওয়ায় এর বিকাশে বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি স্বল্পসুদে ঋণ এবং রপ্তানি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশীয় উদ্যোক্তা ও জাহাজ নির্মাণ কারখানাগুলোর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে চার শতাংশ সুদে অর্থায়নের মতো সুবিধা এ খাতের সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়নে সহায়ক শিল্পের বিকাশও জরুরি। বর্তমানে দেশে নির্মিত জাহাজে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন হয়। কিন্তু মেরিন কেবল, মেরিন রং, তন্তুজাত উপকরণ এবং ইস্পাত পাতের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেশে উৎপাদন করা গেলে মূল্য সংযোজনের হার ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রপ্তানিমুখী জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শুল্ক সুবিধা ও কর অবকাশ প্রদান করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারে ১২ হাজার টন ধারণক্ষমতার ছোট ও মাঝারি আকারের জাহাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা দিলে দেশের নির্মাতারা বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।
দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ঢালাই, জাহাজ নকশা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং নৌ-স্থাপত্য বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী জানান, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পরিবেশবান্ধব জাহাজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণ বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাহাজ নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচিসহ বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন ও প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে এ খাত থেকে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।