দেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও ডিজিটাল করতে ৮৭টি হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগী নিবন্ধন থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটালভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন-১৭ এর সদস্য সুলতানা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড, ল্যাব পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা, ফার্মেসির ওষুধ বিতরণ ও ট্র্যাকিং, সেবামূল্য আদায় এবং রেফারেল সেবা সমন্বিত এই অটোমেশন ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতালে চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ৬১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১৪টি জেলা হাসপাতাল, দুটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ১০টি জাতীয় পর্যায়ের হাসপাতালে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এই ব্যবস্থার ফলে রোগী ও সেবা প্রদানকারী উভয়ই সুবিধা পাচ্ছেন। ডিজিটালভাবে রোগীর তথ্য সংরক্ষিত থাকায় একই পরীক্ষা বারবার করার প্রয়োজন কমে এসেছে, ফলে চিকিৎসা ব্যয়ও হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, রোগীর সম্মতির ভিত্তিতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে রোগীদের কাগজপত্র বহন করার ঝামেলা কমেছে।
মন্ত্রী জানান, সরকারের ই-অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেবার মাধ্যমে রোগীরা এখন ঘরে বসেই হাসপাতালের টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন। এতে হাসপাতালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে না এবং বহির্বিভাগে সরাসরি চিকিৎসকের সেবা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের ১৫টি হাসপাতালে ই-টিকিটিং সেবা চালু রয়েছে এবং ধাপে ধাপে সব হাসপাতালে এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদকে আরও জানান, সমন্বিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে দেশের সব স্তরের হাসপাতালকে এই সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি পাঁচটি জেলায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিক হেলথ আইডি, ই-হেলথ কার্ড এবং সমন্বিত অটোমেশন সেবা চালুর প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।