দেশের ১১ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকিতে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ মানুষ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬ সালের মধ্যে এই হার ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। লিখিত প্রশ্নোত্তর সংসদে উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী সংসদে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ জরিপ ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-২০১৯’-এর তথ্য তুলে ধরেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা জানতে চান, সারা দেশের মানুষ আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এ ঝুঁকি কমাতে সরকারের কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কী ধরনের সাফল্য পাওয়া গেছে।

জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আর্সেনিক ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গভীর নলকূপ, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর খনন ও পুনঃখনন এবং সৌরচালিত পুকুর বালু পরিশোধন ব্যবস্থা।

মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পের সুফল মিললে বর্তমানে আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের হার ২০২৬ সালের মধ্যে ৫ থেকে ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে তা হলো—

  • সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
  • উপকূলীয় জেলায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
  • পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৬টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
  • পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পে ৮৮ হাজার ২৩৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
  • অগ্রাধিকারভিত্তিক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫টি পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।

তাসনিম হোসেন